সংবাদ শিরোনাম

সন্তোষে মজলুম জননেতা ভাসানীর মাজার—ইতিহাস ও সংগ্রামের স্মারক

 প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন   |   জীবনের গল্প

সন্তোষে মজলুম জননেতা ভাসানীর মাজার—ইতিহাস ও সংগ্রামের স্মারক

ডেক্স রিপোর্টার:

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সন্তোষ গ্রামে অবস্থিত মওলানা ভাসানীর মাজার বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন। এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন মজলুম জননেতা হিসেবে পরিচিত মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

মওলানা ভাসানী ছিলেন বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিবিদ এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তান আমলে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে গঠিত যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৫৪-এর অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। তার রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি মাওপন্থি বামধারা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কৃষক-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে পরিচালিত ফারাক্কা লং মার্চ ১৯৭৬, যা তৎকালীন সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়াও ১৯৭৬ সালের ২ অক্টোবর তিনি খোদায়ী খিদমতগার নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং সন্তোষে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এর আগে তিনি সন্তোষে একটি কারিগরি শিক্ষা কলেজ, মেয়েদের একটি স্কুল এবং একটি শিশু কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি পাঁচবিবিতে নজরুল ইসলাম কলেজ এবং কাগমারিতে মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। আসামেও তিনি প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন।

১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণকারী এই জননেতা তার কর্মজীবন শুরু করেন টাঙ্গাইলের কাগমারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকায় একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষ গ্রামেই সমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে তার মাজার প্রাঙ্গণটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রতিদিনই এখানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন।

মওলানা ভাসানীর জীবন ও আদর্শ আজও দেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।